আকরাম উদ্দিন::
জনবল সংকটে ধুঁকছে সুনামগঞ্জ জেলার স্বাস্থ্যখাত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। জেলার ১১ উপজেলায় চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতিতে রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষজন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগে ৮০৯ পদের মধ্যে ৪৩৬ পদ শূন্য রয়েছে। কর্মরত আছেন ৩৭৩ জন। কোনো উপজেলাতেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নেই। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৩০টি, কর্মরত আছেন ১১জন। শূন্য পদ আছে ১৯টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ২৭টি, কর্মরত আছেন ২৪ জন। পদ শূন্য আছে ৩টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৬ জনের মধ্যে আছেন ২ জন, শূন্যপদ আছে ৪টি। ফার্মাসিস্ট ৩ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ২টি।
ছাতক উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৪৭টি, কর্মরত ১৮ জন। শূন্য পদ আছে ২৮টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ৪২টি, কর্মরত আছেন ২৬ জন। পদ শূন্য আছে ১৫টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৮ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ৭টি। ফার্মাসিস্ট ৮ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ৭টি।
দিরাই উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৪৯টি, কর্মরত রয়েছেন ১০জন। শূন্য পদ আছে ৩৯টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ৩৫টি, কর্মরত আছেন ২৫ জন। পদ শূন্য আছে ১৯টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৮ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ৭টি। ফার্মাসিস্ট ৫ জনের মধ্যে শূন্যপদ আছে ৫টি।
জামালগঞ্জ উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ২৫টি, কর্মরত ১০জন। শূন্য পদ আছে ১৫টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ২৩টি, কর্মরত আছেন ১১ জন। পদ শূন্য আছে ১২টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৬ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ৫টি। ফার্মাসিস্ট ২ জনের মধ্যে শূন্যপদ আছে ২টি।
জগন্নাথপুর উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৪২টি, কর্মরত ১৬জন। শূন্য রয়েছে ২৬টি পদ। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ৪৯টি, কর্মরত আছেন ২৬ জন। পদ শূন্য আছে ২৩টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৭ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ৬টি। ফার্মাসিস্ট ৭ জনের মধ্যে আছেন ২ জন, শূন্যপদ আছে ৫টি।
ধর্মপাশা উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৫১টি, কর্মরত ১৪জন। শূন্য পদ আছে ৩৭টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ৩৭টি, কর্মরত আছেন ২৫ জন। পদ শূন্য আছে ১২টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৭ জনের মধ্যে আছেন ৩ জন, শূন্যপদ আছে ৪টি। ফার্মাসিস্ট ৪ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ৩টি।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৩২টি, কর্মরত ১৪জন। শূন্য পদ আছে ১৮টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ৩২টি, কর্মরত আছেন ২১জন। পদ শূন্য আছে ১১টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৬ জনের মধ্যে আছেন ২ জন, শূন্যপদ আছে ৪টি। ফার্মাসিস্ট ৫ জনের মধ্যে শূন্যপদ আছে ৫টি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের ১১টি, কর্মরত ৫ জন। শূন্য পদ আছে ৬টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৩ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ২টি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৩৪টি, কর্মরত ১৫জন। শূন্য পদ আছে ১৯টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ২৬টি, কর্মরত আছেন ২৬ জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৫ জনের মধ্যে আছেন ৩ জন, শূন্যপদ আছে ২টি। ফার্মাসিস্ট ১ জনের মধ্যে আছেন ১ জন।
শাল্লা উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ২৫টি, কর্মরত ৫ জন। শূন্য পদ আছে ২০টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ৩০টি, কর্মরত আছেন ২৪ জন। পদ শূন্য আছে ৬টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৬ জনের মধ্যে আছেন ১জন, শূন্যপদ আছে ৫টি। ফার্মাসিস্ট ৩টি পদের মধ্যে সবগুলোই শূন্য।
তাহিরপুর উপজেলায় মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের পদ ৩০টি, কর্মরত ৯জন। শূন্য পদ আছে ২১টি। নার্স/মিডওয়াইফ পদ আছে ২৫টি, কর্মরত আছেন ১৫ জন। পদ শূন্য আছে ১০টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৬ জনের মধ্যে শূন্যপদ আছে ৬টি। ফার্মাসিস্ট ৩ জনের মধ্যে আছেন ১ জন, শূন্যপদ আছে ২টি।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সামিয়া বেগম বলেন, হাসপাতালে গেলে খালি ‘নাই নাই’ শুনতে হয়। ডাক্তার নাই, নার্স নাই, কাক্সিক্ষত সেবা নাই। দ্রুত পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহসহ ডাক্তার ও নার্স সংকট নিরসনের দাবি আমাদের।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী জয়নব বিবি বলেন, ডাক্তার, নার্স ও ওষুধ এই তিনটি বিষয়ই রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর মধ্যে যেকোনো একটি না থাকলেই রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। সুনামগঞ্জে টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রথমেই প্রয়োজন জেলা সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া। লোকবল সংকট একটি বড় সমস্যা। ডাক্তাররা সুনামগঞ্জে এসে থাকতে চান না। দ্বিতীয়ত, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট সংকট রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। লোকবল সংকট নিরসনে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
জনবল সংকটে ধুঁকছে জেলার স্বাস্থ্যখাত: ৮০৯ পদের মধ্যে ৪৩৬ পদই শূন্য
- আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ১২:৪৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ১২:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ